Sunday, 1 March 2026

প্রেমারায়_মত্ত (এলার্ট- প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত)

 

' শিক্ষক মানুষ হয়ে নিষিদ্ধ পল্লীতে এসেছেন! তবু কিনা নিজের জন্য পাত্রী দেখতে! কী ব্যাপার বলুন তো মশাই, মাথায় ব্যামো ট্যামো আছে নাকি? '

সম্মুখের ভদ্রলোকের উদ্দেশ্যে প্রশ্নটি ছুঁড়ল মাম্পি। গাঢ় কাজলের প্রলেপ দেয়া চোখদু'টিতে তার গগনচুম্বী বিস্ময়। গাঢ় সাজ ভর্তি মুখশ্রীতে আজ অনন্ত কৌতূহল। ভদ্রলোকের নাম, হীরক মাহমুদ। হাইস্কুল মাস্টার। অনুমান করা যায় বয়স ত্রিশের কোঠায়। লম্বাটে দেহ, চওড়া বুক, শ্যামলাটে দৃঢ়, শান্ত মুখ। শক্ত চোয়াল দ্বয় ভর্তি খোঁচা, খোঁচা দাঁড়ি বেশ আকর্ষণীয়। পুরো ঠোঁটজোড়ায় জ্বলন্ত সিগারেটে ধরেছে বহুদিন। ঠোঁটদ্বয়ের কালচে তা আভায় স্পষ্টই বোঝা গেল। লোকটি দু'দিন আগে এই পল্লীতে এসে মাম্পিদের সর্দারনিকে নয় লাখ টাকা দিয়ে গেছে। বিনিময়ে চাই চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যে বেষ্টিত প তিতা পাত্রী। যাকে বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে নিজের ঘরের বউ করে নিয়ে যাবে মাস্টার হীরক মাহমুদ।

মাম্পি সদ্য তেইশে পা দিয়েছে। রূপে, গুণে সে যেন মহিমান্বিতা। জন্মসূত্রেই প তিতা সে৷ তার মায়ের বয়স যখন ছয় বছর তখন তাকে অপহরণ করা হয়। মায়ের ভাষ্যে যিনি মাকে অপহরণ করেছিলেন তিনি মায়ের আপনজনদের মধ্যেই একজন। কিন্তু সম্পর্কে কী হন মনে নেই মায়ের। বাবা, মায়ের নাম ছাড়া কিছুই মনে নেই তার৷ যাকগে, ভাগ্যদোষে মাম্পির মা মরজিনাকে প তিতা বৃত্তি গ্রহণ করতে হয়। এরপর কোনো এক ভদ্রলোকের মাধ্যমেই মরজিনা গর্ভবতী হয়ে যায়৷ এর আগে বহুবার গর্ভপাত করলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে মাম্পিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারেনি৷ ফলশ্রুতিতে জন্ম হয় মাম্পির। ভদ্র সমাজে বাস করা বাবার পরিচয় নয় নিষিদ্ধ পল্লীতে বাস করা মায়ের পরিচয়ে বেড়ে ওঠে সে৷ মরজিনা সুন্দরী নয়৷ শ্যামলাটে মোটা আর বেঁটে নারী। অথচ মাম্পি অত্যাশ্চর্য সৌন্দর্যের অধিকারে। লম্বায় পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি। দেহের গড়ন, বর্ণ সব মিলিয়ে বাঙালি আর পাঁচজন সুন্দরীকে হার মানানোর মতোই রূপবতী। মা, মেয়েকে মেলানো যায় না। এ পল্লীর অন্যান্য মেয়েরা টিটকিরি দেয় খুব। মরজিনা রাগে না৷ মিটিমিটি হাসতে হাসতে বলে,

' ভদ্র সমাজের, ভদ্র পরিবারের অংশ এক প তিতার গর্ভে এসেছে। মাম্পি হলো সেই কন্যা যে ভদ্র সমাজের চোখে আঙুল দেখিয়ে দেয়৷ ওর গায়ে প তিতার চিহ্ন নেই আছে সেই ভদ্রলোকের চিহ্ন। '

বুঝদার হওয়ার পর থেকে মাম্পি বহুবার প্রশ্ন করেছে,

' মা তুমি তাকে চেনো; যার ঔরসজাত সন্তান আমি?'

মরজিনা এ উত্তর কোনোদিন দেয়নি। মাম্পি জানে কোনোদিন দেবে না৷ হয়তো তার মা চেনে, হয়তোবা না। এ নিয়ে বিশেষ ভাবে কখনো ভাবে না সে।

.

.

হীরক মাহমুদ মাম্পির কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। আর না একবার চোখ তুলে তাকিয়ে দেখেছে মাম্পিকে। যাকে একটুক্ষণ পরই তিন কবুল পড়ে এবং আইনী স্বীকৃতি দিয়ে বউ করে নিয়ে যাবে। মাম্পি নিজের প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে মহাবিরক্ত। লোকটা যে তার দিকে তাকাচ্ছে না খেয়াল করে বলল,

' কী মশাই, প তিতা বিয়ে করছেন আর তাকাতে ঘৃণা হচ্ছে? '

আকস্মিক প্রশ্নে নড়েচড়ে ওঠল হীরক। এক পলক তাকিয়ে দেখল, কাজল কালো চঞ্চলিত, আকর্ষণীয় চোখ দু'টো আর গোলাপি ফর্সা মুখশ্রী। মাম্পি আবেদনময়ী এক হাসি উপহার দিতেই চোখ নামিয়ে নেয় সে। বুঝতে পারে এই মেয়ে ভীষণ প্রফেশনাল। নত দৃষ্টিতে তাই হঠাৎ প্রশ্ন করে,

' কত বছর ধরে এই প্রফেশনে আছেন? '

' আমি জন্মসূত্রেই প তিতা। কিন্তু পুরুষালি শরীরের নিচে শুই আজ সাত বছর। '

সহসা শরীরের লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেল হীরকের। মাথাটা ঝিমঝিম করে ওঠল, সোজাসাপটা এমন নিচু একটা কথা শুনে৷ মেয়েটা কী করে পারল এভাবে উত্তর দিতে? একটুও লজ্জাবোধ হলো না? তীব্র অস্বস্তি জাপ্টে ধরল তাকে। কিন্তু খানিক বাদে হঠাৎ মস্তিষ্কে এলো, সে কোথায় আছে? এখানকার মেয়েদের কাজ কী? তাদের চরিত্র কেমন? সবটা স্মরণ হতে নিমেষেই স্বাভাবিক হয়ে গেল৷ কেটে গেল সমস্ত অস্বস্তি। দ্বিতীয়বারের মতো তাকাল মাম্পির দিকে। এবারে পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। মাম্পিও আবেদনীয় ভঙ্গিমায় তার সম্মুখে বসে রইল স্থির হয়ে। কিন্তু তার অমন ভঙ্গিতে হীরকের চিত্ত চঞ্চল হলো না। সে শান্ত কণ্ঠে বলল,

' বিয়ে না করা অব্দি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিব না আমি৷ '

' কেন দেবেন না? '

' আমি কোনো প তিতার প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না। আমার যত উত্তর সব আমার বউয়ের জন্য। '

' ও বাবা আপনি তো দেখি খুব রহস্যে ঘেরা! প তিতা ঘৃণা করেন অথচ প তিতাই বিয়ে করতে এসেছেন। '

হীরকের মুখটা কঠিন হয়ে এলো। মাম্পি খেয়াল করে বলল,

' উত্তর যখন দেবেনি না একলা ঘরে কী করতে এসেছেন? পাত্রী দেখতে এলে তো তার দিকে তাকাতে হয়। আপনি তো তাকাচ্ছেনও না। '

' আমি দেখতে না দেখাতে এসেছি। '

' কী? '

' আমাকে। যার বউ হবেন তাকে বিয়ের পূর্বে একবার দেখবেন না? '

' ওও বাবা, আপনিত মশাই খুব রসিক। '

' আমার কথায় রসিকতা ছিল না। '

' আমি রসিকতাই নিলাম। '

এ পর্যায়ে চোখ তুলে আবারো তাকাল হীরক। মাম্পি তার দিকে ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে। সে তাকাতেই ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল৷ সীনা টান টান করে বসে ইঙ্গিত দিল বিছানায়। হীরক চোখ নামিয়ে ফেলল। অকপটে বলল,

' পরীক্ষা করছেন? লাভ নেই। আমি শুতে আসিনি। বিয়ে করে বউ নিতে এসেছি৷ '

অত্যাশ্চর্য মুখে তাকিয়ে রইল মাম্পি। মনের সব চঞ্চলতা দূর হয়ে গেল নিমেষে। হাসি হাসি মুখটাও মিলিয়ে গেল৷ ঢোক গিলল বারকয়েক। অধৈর্য্য হয়ে ফের শুধাল,

' আপনি কেন আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন? কী উদ্দেশ্যে? '

বাঁকা হাসল হীরক। মাম্পির হৃৎপিণ্ড ছটফটিয়ে ওঠল ওই হাসি দেখে৷ হীরক বলল,

' উদ্দেশ্য যাই থাকুক, নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার জীবন পরিপূর্ণ ভাবে সুন্দর হবে। কারণ আপনি আমার শেষ জীবনের সঙ্গী হবেন। যদি চান আমার সন্তানের মাও হবেন। '

সহসা শিউরে ওঠল মাম্পি। হাত, পা কাঁপতে শুরু করল তার৷ এই লোক কী বলছে এসব! মাথায় সত্যি গণ্ডগোল নেই তো? কিঞ্চিৎ ভয় হলো তার৷ কান্না পেল মায়ের কথা ভেবে। তার মা চায় সে এই বিয়েটা করুক। ভদ্রঘরে ভদ্রলোকের বউ হয়ে যাক। সংসারি হোক। সর্বোপরি একটা সুস্থ জীবন উপভোগ করুক। মায়ের সে স্বপ্ন, সে আশাকে পূর্ণ করতে হলে এই লোকটার বউ হতে হবে তাকে। এক প তিতাকে কেউ কখনো ঘরের বউ করতে চায় না৷ লোকটার হয়তো মাথায় ব্যামো আছে। তাতে কী? ব্যামো অবস্থায় তার চাওয়াটুকুকে সায় দিলে নিজের ভবিষ্যত তো সুন্দর হবে। ভালোবাসাবাসি হয়তো হবে না কখনো। দিনশেষে একটা সুস্থ জীবন পাবে। নিত্যদিন বাহারি পুরুষের শরীরী ভাষা জানার থেকে হালালভাবে এক পুরুষের শরীরী ভাষা জানা ঢেড় ভালো।

নিষিদ্ধ পল্লীর বৈঠকখানায় কাজী ডেকে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হলো হীরক আর মাম্পির। বিদায়বেলা রুদ্ধশ্বাস ছেড়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নার বদলে হাসল মাম্পি। এ প্রথম বোধহয় কনে বিদায়ে কাঁদল না কেউই। হাসল সবাই। সবচেয়ে বেশি হাসল মা আর মেয়ে।

শহরে একটি ছোট্ট ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকে হীরক। সেই ফ্ল্যাটেই নিয়ে আসা হলো মাম্পিকে। সঙ্গে হীরকের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু রায়ান আর তার বউ জুঁই। বাসায় এসে বন্ধু আর তার বউ মিলে বাসর ঘর সাজালো। মাম্পি ততক্ষণে লম্বা শাওয়ার নিয়ে ভেজা চুলে বেরিয়ে এসেছে। সদ্য স্নাতা দেহে মাখিয়েছে সুগন্ধি। সে বেরুতেই রায়ান চলে গেছে। জুঁইও বাসরঘরের দেখিয়ে শুভকামনা জানিয়ে চলে গেল। মাম্পি কোথাকার মেয়ে জানে জুঁই৷ তাই আলাদা করে তাকে শেখানো, পড়ানোতে আগ্রহ পেল না৷ মাম্পি তাদের থেকে একশ ধাপ এগিয়ে জানে সে। নেহাৎই হীরক ভাই তাকে নিজের বোনের মতো ভালোবাসে তাই আসা৷ নয়তো কখনোই আসত না৷ তবে মানতে হবে হীরক ভাই নিজের জেদে সর্বদা অটুট। তার মুখে জবান এক। নয়তো ক'জন পারে রাগের বশে, তীব্র জেদে মুখ ফস্কে বলে ফেলা কথাটাকে সত্যতা দিয়ে প তিতাকে ঘরে তুলতে!

ফুলে সজ্জিত বিছানায় চুপচাপ বসে আসে মাম্পি৷ এর আগে বহু পুরুষের সঙ্গে বিছানা মাতালেও এবারের অনুভূতি যেন একেবারেই আলাদা। কারণ এবার বিছানা মাতাতে হবে নিজের স্বামীর সঙ্গে। যদিও পুরুষ মানুষের প্রতি তার অনুভূতি নেই। তবু মনের ভিতর একটা বউ বউ ভাব এসেছে। হীরক মাহমুদের বউ সে৷ এ যেন রাতদিনের মতোই সত্য। একটুখানি বুক কাঁপল অকস্মাৎ। কারণ হীরক মাত্রই রুমে এসেছে। হাতের ঘড়ি খুলে রাখছে টেবিলে৷ পকেট থেকে ওয়ালেট বের করেও রাখল৷ এরপর তাকাল মাম্পির দিকে৷ মাম্পি কেন যেন একটুখানি লজ্জা পেল। অথচ তার লজ্জা পাওয়ার কথা নয়৷ এসবে সে অভ্যস্ত। হীরক পরনের শার্ট খুলে গায়ে সেন্ডো গেঞ্জি পরা অবস্থায় বিছানায় ওঠে বসল৷ মাম্পির পাশে৷ মাম্পির বুকের ভেতর রক্ত ছলজে ওঠল যেন। কেন এমন হচ্ছে তার? হীরক বলল,

' আমার নাম হীরক মাহমুদ। হাইস্কুলের বাংলা শিক্ষক। '

' জানি। '

নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলল হীরক। মাম্পির দিকে কিছুটা ঘেঁষে বসে ওর হাত ধরার আবদেন করল,

' হাতটা ধরতে পারি? '

বিস্মিত হলো মাম্পি। কী আশ্চর্য! এতকা কত পুরুষ বিনা প্রশ্নে, বিনাবাক্যে তার সাথে শুয়ে নরম শরীরটা ছিন্নভিন্ন করে গেল। আর আজ স্বয়ং তার স্বামী প্রশ্নে করছে হাত ধরবে কিনা? বিষয়টা হজম করতে পারল না মাম্পি। অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। বলল,

' আর কত রঙ্গ দেখব মশাই? পুরুষ মানুষের আর কত রঙঢঙ দেখব। যাকে বউ করে বাসর অব্দি নিয়ে এসেছেন, কিছুক্ষণ পর যার শরীরে ঝড় তুলবেন তার কাছে তারই হাত ধরার অনুমতি চাইছেন? '

কথাগুলো বলেই ফের অট্টহাসি। হীরক বিরক্ত হলো। চাপা ধমক দিয়ে বলল,

' আস্তে হাসুন, পাশের রুমে আমার বন্ধু আর তার বউ আছে। '

চুপসে গেল মাম্পি৷ মিটিমিটি হাসতে হাসতে হাত বাড়িয়ে দিয়ে চটপটে গলায় বলল,

' শুধু ধরে ক্ষ্যান্ত দিবেন কেন? চেটেপুটে খেয়েও দেন। '

ফের অট্টহাসি। হীরক স্তব্ধ হয়ে গেল! কঠিন মুখে তাকিয়ে রইল নিষ্পলক। মাম্পি বোধহয় বুঝল একটুখানি। হাসি থামিয়ে ঘনঘন চোখের পলক ফেলে মৃদুস্বরে বলল,

' রাগ করলেন? রসিকতা করলাম গো মশাই, রসিকতা করলাম।'

 ************************************************************************

লম্বা দেহের চওড়া বুকের হীরক ছাত্রাবস্থা থেকেই বেশ সুদর্শন। গায়ের বর্ণ শ্যামলা হলেও প্রথম পলকেই যে কোনো নারী আকর্ষিত হয় তার প্রতি। প্রমাণ সরূপ অগণিত মেয়ের প্রেমের প্রস্তাবকেই ধরা যায়। সেই অগণিত মেয়েদের মধ্যে সীমাও একজন৷ যে মেয়েটি বর্তমানে তার বড়ো ভাইয়ের বউ। হীরক তার বাবার দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান। আর বড়ো ভাই হিমেল প্রথম পক্ষের। হিমেলের মা রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। এরপর শিশু হিমেলের জন্য বাবা হীরকের মাকে বিয়ে করে। বছর দুয়েক পর জন্ম হয় হীরকের। হিমেলের বয়স তখন নয় বছর। ওটুকুনি ছেলের মনে ভীষণ ঈর্ষা জাগে সদ্য নবজাতককে দেখে। যে ঈর্ষা বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকট হয়৷ হিমেলের একটা অভিযোগ যা পরিবারের সকলকে লজ্জায় ফেলে, বিব্রত করে। বাবা তার দেখভালের জন্য বিয়ে করেছিল। তাহলে কেন হীরকের জন্ম হলো? সবার ধারণা ছিল হিমেল যখন বড়ো হবে তখন বাস্তবতা বুঝবে, সহজ, স্বাভাবিক বিষয়টাকে জটিল করে আর কাউকে অসম্মান করবে না, লজ্জায় ফেলবে না৷ কিন্তু সবাইকে হতাশ করে দিয়ে হিমেল আরো বেঁকে গেল। বড়ো হতে হতে তার আচরণ আরো বেশি উদ্ধত হলো। আগে হীরকের মাকে সে যাও মা বলে ডাকত ধীরেধীরে সে ডাক ভুলে বাবার বউ বা হীরকের মা বলে সম্বোধন করতে শুরু করল। যারা বুঝে না তাদের বোঝানো যায় হিমেল যখন ছোটো ছিল সবাই বোঝানোর চেষ্টা করত৷ কিন্তু বড়ো হবার পর আর কেউ কিছু বোঝাতে আসেনি। কারণ হিমেল এখন যথেষ্ট বুঝদার। যেচে পড়ে কেউ অসম্মানিত হতে চায় না আর৷ সম্পর্ক গুলো তাই ভীষণ তিক্ত হয়ে ওঠেছে। বড়ো ভাই পছন্দ করে না বলে হীরক সবসময় তার থেকে নির্দিষ্ট একটি দূরত্ব মেপে চলে। হিমেল যখন প্রতিষ্ঠিত হীরক তখন ভার্সিটির স্টুডেন্ট। সীমা নামের সাধারণ পরিবারের একটি মেয়ের সঙ্গে গভীর প্রণয়ে আসক্ত সে। প্রেমের শুরুটা হয়েছিল সীমার আহ্বানেই। প্রথম বর্ষে অগণিত মেয়েদের প্রেমের প্রস্তাবের ভীড়ে সীমাও একজন ছিল। হীরকের দৃষ্টি আঁটকেছিল সীমার ধূসর বর্ণের চোখ দুটিতে। তবু সরাসরি গ্রহণ করেনি। প্রথম দফায় স্রেফ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মাত্র৷ পরিকল্পনা ছিল বন্ধু হয়ে যাচাই বাছাই করে দেখবে মেয়েটাকে৷ এরপর সিদ্ধান্ত নেবে জীবনে জড়াবে কিনা। তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা গাঢ় হতে হতেই ঘটে যায় এক দূর্ঘটনা। ভার্সিটি থেকে বন্ধু, বান্ধবী নিয়ে ট্যুরে যায় ওরা৷ সেখানে সীমা সহ আরো ছেলেমেয়ে থাকে৷ সময়টা শীতকাল। রাতের খাবার খেয়ে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিল। ওদের মধ্যে কাপল ছিল দু'জন। যারা আলাদা রুম বুক করে সেখানেই রাত্রি যাপনের জন্য চলে যায়৷ অন্যান্য বন্ধুরা বিয়ারের আড্ডা জমায়৷ নিস্তব্ধ রাতে তারা ভর্তি আকাশের নিচে জলন্ত কাষ্ঠের পাশে একাকী বসে রয় শুধু হীরক আর সীমা। রাত গভীর হয় চলতে থাকে ওদের গল্প। গল্পের ফাকে হঠাৎ সীমা ওঠে যায়৷ ফিরে আসে হাতে দু'টো জুসের বোতল নিয়ে৷ যে জুস পান করেই জীবনের চরম ভুলটা করে বসে হীরক। মিষ্টি ভাষী নারীর দুষ্টুমির স্বীকার হয়৷ দুষ্টুমি নাকি ষড়যন্ত্র তখন টের পায়না হীরক। শারীরিক উত্তেজনা দমাতে না পেরে সীমাকে কাছে টেনে নেয়। ভালোবাসার স্বীকারক্তি দিয়ে উন্মাদের মতো নিজের বাসনা জানায়। মুচকি হেসে সায় দেয় সীমা। সারারাত ভিন্ন এক জগতে মত্ত রয় দু'জন। প্রথম কোনো নারী দেহের স্পর্শ, যে নারী তাকে মন, প্রাণ উজার করে ভালোবাসে। যে ভালোবাসা নিজের সবটা কোনো পুরুষকে বিলিয়ে দিতেও দ্বিধা সৃষ্টি করে না৷ সে ভালোবাসায় মত্ত থেকে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয় হীরকের। সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে হীরক। ত্রুটিহীন চরিত্র। সেই একরাতের ব্যবধানে চরিত্রে দাগ লাগে। সেই দাগ গাঢ় হয় সক্কালবেলা সীমার হাউমাউ করে কান্না দেখে। নিজের করা ভুলে স্তব্ধ হয়ে যায় হীরক। কী করে সম্ভব হলো এটা বুঝে ওঠতে পারে না। এক মুহুর্তে কী করে হৃদয়ের লেনাদেনা হয়ে দেহের মিলন ঘটতে পারে তার দ্বারা? কোনোকিছুরই উত্তর মেলেনা। এক অসহায় মেয়ের সর্বস্ব হারানোর ব্যথা বুকে লাগে খুব। সিদ্ধান্ত নেয় ট্যুর থেকে ফিরেই বিয়ে করবে সীমাকে। সীমাও তখন রাজি হয়। কিন্তু ফিরে আসার পর আচরণ বদলে যায় সীমার। অথচ একরাতের ক্ষণিকের আবেগ আর সকালবেলা অনুভব করা পাপবোধ সীমার প্রতি গভীর আসক্ত করে ফেলে তাকে। হৃদয় গহীন থেকে তৈরি হয় প্রগাড় মায়া, সীমাহীন ভালোবাসা, অগাধ সম্মান। বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে হীরক। সীমা বলে, বিয়ে করলে এভাবে একাকী করবে না৷ পারিবারিক ভাবে করবে। আপাতত তারা সম্পর্কে থাকুক পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করবে। তার কথাকে সম্মান জানিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্কে রয়। সীমার তরফে এই সম্পর্কের মূল্য কতটুকু ছিল জানে না৷ কিন্তু হীরকের মনে সীমা ছিল খুবই মূল্যবান৷ কারণ সীমা সেই নারী যে তাকে প্রথম নারী শরীরের ভাষা চিনিয়েছে, সুখ দিয়েছে। তাই সীমাকেই প্রথম, একমাত্র এবং শেষ নারী হিসেবে জীবনে চায় সে। কিন্তু তার সে চাওয়া পূর্ণ হয় না । কারণ চরিত্রহীনারা সততা পছন্দ করেনা। 

 

ছলনায় ভরা নারীরা পুরুষের খাঁটি ভালোবাসা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে না। তাই তো সেদিন কঠিন এক সত্যির মুখোমুখি হয় হীরক। জানতে পারে, সীমা তাকে কোনোদিনও একবিন্দু ভালোবাসেনি৷ ভার্সিটির এক বড়ো ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড ছিল সীমা। যে তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে বাজি ধরেছিল হীরককে প্রেমের প্রস্তাব দেয়৷ কারণ তার বয়ফ্রেন্ড কথার ছলে একদিন বলেছিল ভার্সিটির সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েরও ক্ষমতা নেই হীরক মাহমুদকে পটানোর৷ এই কথাটাই ইগোতে লেগেছিল সীমার৷ সে যথেষ্ট সুন্দরী। ভার্সিটির প্রথম সারির সুন্দরীদের মধ্যে একজন৷ তাই বাজি ধরে ফেলে৷ এরপর বাজিতে সেও হেরে যায়৷ কারণ হীরক তার রূপে মুগ্ধ হলেও প্রেমিক নয় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়৷ এ নিয়ে সীমার বয়ফ্রেন্ড সেদিন হো হো হেসেছিল। তাচ্ছিল্য করেছিল তার রূপ নিয়েও৷ যা সীমার জেদ আরো বাড়িয়ে দেয়৷ নারীর জেদ কতটা ভয়ংকর হয় প্রমাণ করে দেয় সীমা। ট্যুরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে প্ল্যান করে জুসের সঙ্গে উত্তেজক ট্যাবলেট মিশিয়ে খাইয়ে দেয় হীরককে৷ এরপর যা ঘটতে পারে তাই ঘটে যায়। তার ফাঁদে পা দেয় হীরক৷ আর নিজে থেকেই সম্পর্কে জড়ানোর আকুতি করে৷ গুটিকয়েক জন ছাড়া ভেতরের কাহিনি কেউ জানত না৷ সবাই শুধু অবাক হয়েছিল আকস্মিক হীরক মাহমুদের সীমার প্রতি আসক্ত হওয়া দেখে। প্রতিটা ক্ষণে সীমার জন্য পাগলামি করার জন্য৷ মুগ্ধ হয়েছিল সীমার প্রতি হীরক মাহমুদের ভালোবাসা দেখে। এরপর দীর্ঘ একটা সময় কেটে যায়। পরিবার থেকে বিয়ে ঠিক হয় সীমার৷ যা হীরক জানতে পারে সীমার সেই বয়ফ্রেন্ডের কাছে। যার জন্য হীরক ঘৃণ্য এক ষড়যন্ত্রের শিকার। সীমার বিয়ে ঠিক, সীমা তার সঙ্গে যা করেছে সব ছিল বাজি ধরে। এসব জানার পর হীরক হিংস্র হয়ে ওঠে খুব৷ প্রেম ভেবে এতকাল সে প্রেমারায় মত্ত ছিল! বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যায় যেন। সিদ্ধান্ত নেয় সীমার বিয়ে ভাঙবে, উপযুক্ত শাস্তি দিবে ঐ ছলনাময়ীকে। এরই মধ্যে বাড়ি থেকে খবর আসে তার বড়ো ভাইয়ের বিয়ে এক সপ্তাহ পর৷ প্রথমে হীরক সিদ্ধান্ত নেয় বড়ো ভাইয়ের বিয়েতে যাবে না৷ কিন্তু হবু ভাবিকে দেখে না গিয়ে পারে না। সীমা! তার বড়ো ভাইয়ের বউ হচ্ছে সীমা! বিষয়টা মেনে নিতে মৃত্যু যন্ত্রণা হচ্ছিল। সীমাকে শাস্তি দিতে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে সিদ্ধান্তে অটুট থাকতে পারল না মায়ের অনুরোধে। বড়ো ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত নয় তাই মাকে জানিয়েছিল সীমাকে তাদের বাড়ির বউ না করতে৷ সে ভালো মেয়ে নয়। একাধিক ছেলের সাথে তার সম্পর্ক। নিজের সঙ্গে কী ঘটেছে এসব এড়িয়ে গেল যদিও। মা এসব শুনে তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বলল৷ কারণ হিমেল তাদেরকে পছন্দ করে না। তারা এসব বললে ভুল বুঝবে পারিবারিক অশান্তি বাড়বে৷ বড়ো ভাইকে চেনে হীরক তাই চেষ্টা করে সীমার সাথে যোগাযোগ করার। সফলও হয়৷ সমস্ত রাগ, ব্যর্থতা গোপন রেখে অনুরোধ করে সে যেন তার বড়ো ভাইকে বিয়ে না করে৷ অন্তত যার ছোটো ভাইয়ের একরাতের শয্যাসঙ্গিনী হয়েছে তার বউ হয়ে নিজেকে যেন নরকের কীট প্রমাণ না করে। সীমা তার কথা রাখেনি৷ অর্থ, সম্পদের লোভ। একজন সফল ব্যবসায়ী বরের লোভ সামলাতে পারেনি। মানুষ প্রেমে পুড়ে, হীরক পুড়েছিল প্রেমারায়। প্রেমারা কী জানেন? বাজি রেখে তাসখেলা। সীমা হীরককে তাসের ন্যায় খেলেছে। যে যন্ত্রণা আজন্মকাল পুড়াবে হীরক মাহমুদকে।  

 


Wednesday, 6 September 2023

অভিশপ্ত রজনী

মৃত মেয়েটিকে ধর্ষণ করার সময় মেয়েটি যে জীবিত হয়ে ওঠে সেটা খেয়াল করেনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাব্য।ধবধবে সাদা চামড়ার মেয়েটিকে ভোগ করার সময় মাথা ঠিক ছিল না কাব্যর।কাব্য বুঝতেই পারে নি মেয়েটি ধীরে ধীরে জীবিত হয়ে উঠছে ।মেয়েটির ঠান্ডা শরীরে ধীরে ধীরে রক্ত চলাচল শুরু হতে থাকে আস্তে আস্তে মেয়েটির শরীরে তাপ আসতে শুরু করে ।ফ্রোজেন করে রাখা মেয়েটির বডি শক্ত হয়ে থাকার কথা বরফে।কিন্তু না মেয়েটির শরীর ছিলো খুব নরম আর ঠান্ডা।যার জন্য কাব্য বুঝতেই পারে নি মেয়েটি কত দিনের মৃত। হঠাৎ করে কাব্য খেয়াল করে মেয়েটি তার দিকে একভাবে তাকিয়ে আছে,গাড়ো লাল রঙের লিপিস্টিক পরা মেয়েটির।কাব্যর দিকে তাকিয়ে মিচমিচ করে হাসছে মেয়েটি। বিষয়টা দেখে কাব্যর নেশা কেটে যায়।কাব্যর বুক ধড়ফড় করে কাঁপছে।কাব্যর বুকের স্পন্দন শুনতে পাচ্ছে মেয়েটি।চারদিকে শুনশান নিরবতা কোথাও কেউ নেই।গভীর রাতের নিরবতায় চারদিক থেকে অশরীরী রা যেনো হাতছানি দিয়ে ডাকছে।তাছাড়া কাব্য এমন একটা জায়গা আছে সেখানে শুধু লাশ আর লাশ।ভয়ের চোটে কাব্যর নেশা হারিয়ে যায়।এখন তার কাছে মনে হচ্ছে চারদিক থেকে লাশ গুলো তার দিকে তাকিয়ে আছে।লাশ গুলো হাতছানি দিচ্ছে তাকে।

রোজ রাত হলেই হসপিটালের পিছনে কাব্য আর তার বন্ধুরা নেশায় মগ্ন থাকে।কোনো মেয়ে সামনে পেলে তার সাথে বাজে ব্যবহার করে।আজ কাব্য অতিরিক্ত নেশার ঘোরে হসপিটালের মাঝে ঢুকে পড়ে। কাব্যর বন্ধুরা হসপিটালের পিছনের বাগানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাব্যর বন্ধু আরিফ,তনয়,আবির,বিলাল, অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।তাদের বন্ধু কাব্য যে মিসিং নেশার ঘোরে তাদের সেটা খেয়াল ও নেই।
কাব্য নিজের অজান্তেই হসপিটালের মর্গে প্রবেশ করে।মর্গে আজ কেউ ছিলো না।পোস্ট মর্টেম এর ডাক্তার সহ,ডোম রা অন্য দিকে বিজি ছিলো।এমন সময় কাব্য ওখানে প্রবেশ করে ফ্রোজেন করা একটি লাশ দেখে কাব্যর মাথায় জঘন্য ঘৃণ্য একটি চিন্তা আসে।কাব্য তার বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেই।লাশ টা একটা মেয়ের থাকে।মেয়েটার শরীর এত সাদা যা দেখে কাব্যর পৈচাশিক চিন্তা মাথায় আসে।
তারপর ই ঘটে সেই অবাস্তব ঘটনা।মেয়েটি জীবিত হয়ে ওঠে।কাব্য মেয়েটিকে দেখে ভয়ে পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু মেয়েটি কাব্যর হাত টেনে ধরে।আর কাব্যকে বলে আমাকে বাঁচিয়ে তুলেছো তুমি কোথায় যাচ্ছো এখন।কাব্য বলে আমার ভুল হয়ে গেছে।আমাকে মেরো না।মেয়েটি বলে আমি কি ভূত প্রেত যে তোমাকে মারবো।আমাকে এরা মাঝে মাঝে অক্সিজেন দেই আর এখানে আটকে রাখে লাশ পাহারা দেওয়ার জন্য।আমি একটি সাধারণ মেয়ে।আমাকে এখান থেকে মুক্ত করো কাব্য।আমাকে এরা আটকে রেখেছে।আমাকে একটা স্বাধীন জীবন দাও কাব্য।কাব্য বলে আমাকে তুমি ছেড়ে দাও।আমি ভুল করেছি আমাকে ক্ষমা করে দাও।মেয়েটি বলে তুমি কোনো ভুল করো নি।হ্যাঁ আমাকে রেপ করেছো এটা অনেক বড় অন্যায় তোমার। তবুও এ অন্যায়ের মাধ্যমে আমাকে ওই বাক্স থেকে মুক্ত করেছো তুমি।কাব্য খেয়াল করে মেয়েটির মুখ খুব ই ইনোসেন্ট।আসলেই ও সাধারণ আর পাঁচটা মানুষের মতো।মেয়েটিকে দেখে কাব্যর মায়া হলো।তাছাড়া মেয়েটি এতই সুন্দর কাব্য প্রেমে ও পড়ে যায়।
কাব্য মেয়েটিকে বলে আপনার নাম কি?
"ফারজু"
আচ্ছা কোথায় যাবেন? বাসা কোথায় বলুন।আমি এগিয়ে দিয়ে আসি।
"আমার কোনো বাড়ি ঘড় নেই।কোথায় যাবো জানিনা।"
তাহলে এখন কি করবেন।
"ফারজু বলে,,আমাকে যখন বাঁচিয়েছেন ই তাছাড়া আমার শরীর আপনি ভোগ করেছেন।আমাকে আপনার দাসি বানিয়ে রাখুন।"
কাব্য বলে,, বিয়ে করবেন আমাকে।
ফারজু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
পরের দিন কাব্যর বন্ধুদের নিউজ পাঠায় কাব্য যে সে বিয়ে করেছে।কাব্যর বন্ধুরা অবাক হয়ে যায় হাজার খানিক মেয়েকে ভোগ করা ছেলে নির্দিষ্ট কোনো মেয়েকে নিয়ে থাকবে।
অপর দিকে হসপিটাল থেকে লাশ উধাও।চারদিকে হৈ চৈ পড়ে গেছে লাশ নিয়ে।
নাম পরিচয় হীন মেয়েটির বেওয়ারিশ লাশ টা তিন মাস ধরে ফ্রোজেন করে রাখা হয়েছে।কিভাবে মেয়েটি মারা গেলো এখনও তার কোন সন্ধান মেলেনি। হিন্দু না মুসলিম না খ্রিস্টান কোন গোত্রের মেয়েটির সেটাও বোঝার কোন উপায় নেই তাই মেয়েটির লাশের শেষ কাজ কিভাবে করবে সেটাও কেউ বুঝতে পারেনি। এছাড়া মেয়েটির লাশ যেভাবে পাওয়া গেছে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া না গেলে তার শেষ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই নিয়ে পত্রিকা নিউজ বিভিন্ন চ্যানেলের খবর ছড়িয়ে দেয়া হয় তবুও মেয়েটির কোনো আত্মীয়-স্বজন বা কেউ এসে কোন খোঁজ খবর নেই নেই।
মেয়েটির লাশ এক ভয়ংকর অবস্হায় পাওয়া গেছিলো।
ওইদিকে কাব্যর বন্ধু বিলাল নিঁখোজ।বন্ধুরা খুজে খুজে হন্য কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।হটাত আরিফের ফোনে একটি এম.এম.এস আসে। এম.এম.এস টি দেখে ভয়ে আরিফ অস্বাভাবিক হয়ে যায়।ভয়ংকর এক কালো ছায়া ছিলো এম.এম.এস এ।
বধূ বেশে একটি মেয়ে বিলাল কে ডাকে।গভীর রাতে বিলালের ঘরের দরজায় নক করছে কেউ।বিলাল নেশাগ্রস্ত অবস্থায় উঠে দেখে ওর ওয়ালে একটি কালো ছায়া।বিলাল দরজা খুলে বলে কে? এত রাতে কে আমাকে ডাকে।দরজা খুলেই বধূ বেশে অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে দেখে বিলালের মাথা ঠিক থাকে না।
আরে এ তো মেঘ না চাইতেই জল।অনেক দিন কোনো মেয়ের শরীর ছুয়ে দেখি নি আমি।বলেই চরিত্রহীনতার একটি হাসি দিয়ে মেয়েটির হাত ধরে টান দিয়ে বিছানায় নিয়ে যায়।মেয়েটি খুব গম্ভীর কন্ঠে বলে তুমি যেমন অনেক দিন কোনো মেয়েকে স্পর্শ করো না আমিও তেমনি অনেক দিন পিপাসা মিটাই না।
বলেই বিলালের বুকে বড় বড় নখ ঢুকিয়ে হৃদপিন্ড বের করে এনে খেয়ে ফেলে মেয়েটি।বিলালের শরীরের ভিতরের সব নাড়ি ভুড়ি বের করে আনে।আর দুই হাত ভরে রক্ত নিয়ে খেতে থাকে।
হসপিটাল থেকে একটা লাশ উধাও হওয়া কম কথা নয়।এর জবাবদিহীতা হসপিটাল কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।খুব চিন্তায় আছে হসপিটাল অথোরিটি।এই লাশ নিয়ে অনেক বড় ইতিহাস আছে।যেটা ভাবলে তাদের শরীর হীম হয়ে আসে।
হসপিটালের নিউ ডাক্তার মাহাদ আহমেদ এসে এই লাশের রহস্য শুনে তিনি অবাক হয়ে যান।সবাই শুধু ঘটনা টা লুকানোর চেষ্টা করে কিন্তু কেউ ই বলতে চাই না আসল কাহিনী কি।মাহাদ আহমেদ এর জোরাজোরিতে হসপিটালের নার্স সুমাইয়া মিম মাহাদ আহমেদ কে ঘটনা টা খুলে বলেন।তারা একটা কফি শপে মিট করে কারণ মিম সাহস পাচ্ছিলো না হসপিটালে দাঁড়িয়ে ঘটনা টা বলতে।
কফি খেতে খেতে মিম বলতে থাকে স্যার আপনি নিউ তাই ব্যাপার টা হাস্যকর ভাবছেন।ওই লাশের মেয়েটা কোনো সাধারণ মেয়ে ছিলো না।আপনি পুরা ঘটনা জানলে ভয়ে হসপিটাল ছেড়ে পালাবেন।মাহাদ সাহেব তাচ্ছিল্যর সাথে হেসে দিলেন।আর বললেন আমাকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বলুন।
মিম বলে স্যার সেদিন রাতে আমরা সবাই ফ্রি ছিলাম ডাক্তার আর নার্সরা গল্প করছিলাম।হটাত দুইটা ছেলে একটা মেয়ের লাশ নিয়ে আসে পাটিতে করে মুড়িয়ে।লাশের শরীরে যে কাফন ছিলো সেটাও পঁচে গেছিলো।মাংস হাড় থেকে এড়িয়ে গিয়েছিলো।পাটির ভিতর মেয়েটির সব মাংশ খসে খসে পড়ে গেছিলো।মেয়েটির চেহেরার কোনো আকৃতি বোঝার উপায় ছিলো না।ছেলে দুইটা হাঁপাতে হাঁপাতে লাশ টা নিয়ে আসে।আমরা জানতে চেয়েছিলাম এই লাশ কার।তখন ছেলে দুইটা বলে জানিনা কার তবে এই লাশ আমাদের গ্রাম সাফ করে দিচ্ছে তাই হসপটালে নিয়ে আসলাম।
আমরা ভীষণ কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইলাম এই আপনাদের গ্রামের মানুষদের সাফ করে দিচ্ছে মানে। তখন ছেলে দুইটা বলে কোনো সাধারণ লাশ নয় এটা। এই মেয়েটিকে আমরা এই গ্রামে একদিন পেয়েছিলাম কারা যেন মেরে ফেলে দিয়ে গিয়েছিলো।তারপর আমরা এই মেয়েটিকে আমাদের গ্রামে দাফন করে মাটির নিচে কবর দিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু এই মেয়েটি অস্বাভাবিকভাবে আমাদের গ্রামে রাতের বেলায় ঘুরে বেড়াতো আর মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতো মানুষের রক্ত চুষে খেতে।
"আমরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম।"
একটা মরা লাশ কখনো কারো রক্ত চুষে খেতে পারে গ্রামের মানুষ এখনও প্যারানরমাল জিনিস এত বেশি বিশ্বাস করে যে যেকোনো জিনিস কে তারা আত্মা বানিয়ে ফেলে। ছেলে দুইটস বলে আপনারা হাসবেন না এই মেয়ের ভিতর অনেক কাহিনী আছে অনেক ঘটনা আছে অনেক রহস্য ভরা এ লাশ আমরা এই মেয়েটিকে চিনিনা জানিনা কিভাবে আমাদের গ্রামে এলো। আমরা ভাল মনে করে এর দাফন শেষ করে কবর দিয়ে রাখলাম কিন্তু এ আমাদের গ্রামের মানুষকে মেরে মেরে সাফ করে দিচ্ছে। রাতের বেলা এর কবরে খুব ভয়ঙ্কর আওয়াজ হয়। চিৎকার দিয়ে কবর থেকে উঠে আসে তারপর হেঁটে বেড়ায়। প্রতিরাতে কোন না কোন মানুষের এ খেয়ে ফেলে। আমরা খুব হেসেছিলাম ঐ লোকগুলোর কথা শুনে তারপর আমরা বলেছিলাম কিন্তু যে আপনাদের মেরে ফেলছে আপনারা কিভাবে তার লাশ কাঁধে করে নিয়ে এলেন ভয় লাগল না।
তখন ছেলে দুইটা আমাদের বলে এর আত্মা তো এখন গ্রাম দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাই এর কবর খুঁড়ে আমরা গ্রামের সব মানুষ এর বডি বের করে এনেছি।তবে কয়েকজন হুজুর আমাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করেছেন। এতদিনে এই মেয়েটির হাড় মাটিতে মিশে যাওয়ার কথা কিন্তু এখনো এর মাংস মাত্র পচন শুরু হয়েছে কি অদ্ভুত না ব্যাপারটা।
ছেলে দুটির কথা পাত্তা না দিয়ে আমরা লাশটাকে রেখে দিলাম। ওইটাই ছিল হয়তো আমাদের হাসপাতালের জন্য সবথেকে করা ভুল আর অভিশপ্ত একটা কাজ।
আমরা লাশ টিকে ফ্রজেন করে রেখে দেই। কিন্তু আশ্চর্যভাবে লাশটির হাড়-মাংস আবার জোড়া লাগতে শুরু করে মেয়েটির পচন কৃত মাংস আবার ঠিক হতে শুরু করে। আমরা একটা সময় দেখলাম মেয়েটি আগের মত একটি মেয়ে তে পরিণত হয়ে গেছে তখন ওর সম্পূর্ণ ফেস বোঝা যাচ্ছিল চেহারা তার আকৃতি ছিল।
মাহাদ আহমেদ বলেন,",তারপর"
মিম বলে ব্যাপার টা এ পর্যন্ত থাকলে কোনো সমস্যা ছিলো না।ব্যাপার টা অন্য পর্যায়ে চলে গেলো।
মেয়েটিঃ একটা সময় সম্পূর্ণ একটা মেয়েতে তৈরি হয়ে গেল তাকে দেখে আর বোঝার কোন উপায় ছিল না যে মেয়েটি একটি লাশ। তার ঝরে যাওয়া মাংসগুলো সব ঠিক হয়ে হাড়ের সাথে জোড়া লেগে গেল। আমরা এ ব্যাপারটা নিয়ে খুব বেশি একটা কিছু ভাবি নি এটা আমরা স্বাভাবিক মনে করেছিলাম। এরপর হঠাৎ একদিন গভীর রাতে মর্গে কর্মচারী ছিল তার চিৎকার শোনা যায়। ওর চিৎকার শুনে একজন নার্স এগিয়ে যান এবং দৌড়ে গিয়ে দেখেন এই মেয়েটির লাশ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে নার্স মেয়েটির লাশ দেখে অবাক হয়ে যান আর প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। কারণ লাশ কিভাবে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। শুধু দাঁড়িয়ে ছিল না ওই কর্মচারীর ঘাড় ধরে একটা ঝাঁকি দিয়ে ঘাড় টা ভেঙে ফেলে তারপর ওর ঘাড়ে কামড় দিয়ে ওর সমস্ত রক্ত চুষে নেয় তারপরও কে কুচি কুচি করে কাটে। কাটার পর ফ্লোরে বসে পড়ে টুকরো টুকরো মাংস গুলো খাচ্ছিল। ওই নার্সটা আমার খুব ক্লোজ ছিল।
উনি অস্বাভাবিকভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে আমাদের ঘটনাটা খুলে বলেন আমরা ঘটনাটা স্বচক্ষে দেখার জন্য ওখানে উপস্থিত হয় কিন্তু আমরা ওখানে গিয়ে দেখি পরিবেশটা স্বাভাবিকই আছে। আমরা ওই মেয়েটির লাশ যেভাবে রেখে গেছিলাম সেভাবেই আছে। ফ্লোরে রক্তের দাগ নেই কোথাও তাই সেদিন আমরা ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলাম।বিষয় টা এতটা সিরিয়াসলি নিলাম না ব্যাপারটা আমরা মনে করেছিলাম কর্মচারী তাই হয়তো কোথাও গিয়েছ। কিন্তু একটানা ৭ দিন হয়ে গেল কর্মচারীর কোন খবর নেই তার বাড়িতে আমরা যোগাযোগ করলাম কিন্তু সেখানেও কোন খবর আমরা আর পেলাম না। এরপর আমাদের হস্পিটালের সিনিয়র ডাক্তার একদিন মর্গের রুমে প্রবেশ করে উনি আর ভয় পেয়ে যান।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
"একটা কফিন থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। এরপর কফিন টার মুখে নিজে নিজে খুলে যায় তারপর,, কফিনের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটি মেয়ে। মেয়েটি কফিনের ভিতরে শুয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ বসে পড়ে তারপর কফিন থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়ায়। মেয়েটির চোখ দিয়ে যেন আগুন জ্বলছিল সমস্ত শরীর দিয়ে কেমন একটা ধুয়া উড়ছিল। হঠাৎ করে ধোয়ার জন্য দেখে বুঝা যাচ্ছিল না এটা আসলে কার লাশ? তারপর মেয়েটির হাত ইয়া বড় লম্বা হয়ে যায় আর লম্বা হাত দিয়ে ওখানে রাখা সদ্য একটা লাশ মেয়েটি চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়া শুরু করে। তবুও যেন মেয়েটির খুদা মিটছিল না তারপর তার লম্বা হাতকে আরও অনেক বড় লম্বা করে পাশের রুম থেকে একজন রোগীকে টেনে নিয়ে চলে আসে হাত দিয়ে। তারপর তার ঘাড় মটকে ভেঙে দেয় আর তার রক্ত চুষে খেতে থাকে তারপর একটা ছুরি দিয়ে তাকে কুচিকুচি করে কাটতে থাকে। কাটা মাংসগুলো বীভৎসভাবে খাচ্ছিল। সিনিয়র ডাক্তার এটা দেখে ওখান থেকে ভয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ""
মাহাদ মুখে হাত দিয়ে খুব চিন্তিত ভাবে ছিল আর মিমের কথা গুলো খুব মনোযোগ সহকারে শুনছিল। মিস মিম আপনি কোন ভৌতিক মুভি দেখে এসে তার ডায়লগ বলছেন না তো আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন আপনি আমাকে হসপিটালে একটা লাশ উধাও হয়েছে আর কিছু কাহিনী বলার জন্য এখানে এনেছিলেন। কিন্তু আপনি তো আমাকে হরহর মুভির কাহিনী শোনাচ্ছেন।মিম বলে না ডাক্তার এটা কোন হরর মুভি না। মাহাদ আহমেদ খুব আশ্চর্য হয়ে যান এই ঘটনা কি সত্যিই ঘটেছে। মিম বলে,, তারপরে আরো ঘটনা আছে আপনাকে তো এখনো কিছুই বলিনি আমি। মিম বলে শুনুন তারপর আরো কিছু ঘটনা। ওই ঘটনার পরের দিন সিনিয়র ডাক্তার টা নিখোঁজ হয়ে যান তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পরেরদিন হসপিটালের কুকরা চিৎকার দিয়ে এসে পড়ে তাদের চোখে-মুখে অনেক ভয়ের আতঙ্ক দেখা যায় আমরা সবাই প্রশ্ন করি এভাবে ভয় পেয়ে আছো কেন? ওয়া ভয়ে কথাই বলতে পারছিলো না।তারপর বলে,, আমরা গতকাল বাজার থেকে যে মাংস এনে ফ্রিজে রেখে ছিলাম ওটাও আজ বের করেছি রান্নার জন্য।
"মাংসের বরফ গলে যাওয়ার পরে দেখি ওটা মুরগী ছিলো না।আমরা বলি তাহলে,কি ছিলো"
ওরা বলে মানুষের মাংশ ছিলো।মানুষের হাত পায়ের নখ।মানুষের চামড়া সহ মাংস কাটা। একটা মানুষের সমস্ত অংঙ্গ প্রতঙ্গ। আমরা তো কেউ বিশ্বাস ই করতে পারছিলাম না।এটা কিভাবে সম্ভব।আমরা পরে রান্নাঘরে যায় আর গিয়ে দেখি ঘটনা টা সত্য।আমরা নিজেরাই চমকে গেলাম এটা কিভাবে সম্ভব।
তখন আমাদের মনে হলো বাজারের ওই লোক কে পুলিশে দেওয়া উচিত।ও মানুষ মেরে বিক্রি করছে নাতো।
পরের দিন পুলিশ নিয়ে আমরা মাংস বাজারে পৌছে গেলাম।যে লোকটার কাছ থেকে ওরা মাংস কিনছিলো আমরা তার কাছেই যায়।লোকটা আমাদের দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে যায় আর এদিক সেদিক তাকাতে থাকে।একটা সময় লোকটা পালানোর চেষ্টা করে।কিন্ত পুলিশ হাতে নাতে ধরে।
লোকটার ব্যাপারে আশে পাশে খোজ নিলাম।সবাই খুব রহস্য জনক কথা শোনায় লোকটাকে নিয়ে।
এরই মাঝে মাহাদের ফোন বেজে ওঠে।
স্যার দ্রুত আসুন।একজন ইমারজেন্সি রুগি এসছে হসপিটালে।
মাহাদ মিম কে বলে মিম বাকিটা রাতে শুনবো।চলো ইমারজেন্সি রুগি এসছে।
এদিকে কাব্য ওর ফ্রেন্ড দের বার বার ফোন দিচ্ছে তার বউ দেখার জন্য।এই দুই দিন কাব্যর ফোন অফ ছিলো।আর সে নতুন বউ নিয়ে হোটেলেই ছিলো।এটা ফারজুর চাওয়া ছিলো যে সে হোটেলে থাকবে।
কাব্যর ফ্রেন্ড বেলাল মারা গেছে নিউজ টা শুনেই কাব্য ভেঙে পড়ে।অনেক ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলো তারা।এভাবে কিভাবে মারা যেতে পারে।
এইদিকে আরিফ খুব অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে।নিজের ফোনের এম.এম.এস টা দেখে।
আরিফ বাকিদের এম.এম.এস টা দেখানোর আগেই সেটা ডিলিট হয়ে যায়।
বেলালের মৃত্যু রহস্য কেউ জানতেও পারলো না। একমাত্র আরিফ ই জানতে পেরেছিলো কিন্ত কাউকে তার প্রমাণ দেখাতে পারে নি।
কাব্য,,আরিফ,,তনয় সবাই বেলালের দাফনে যায়।কবর জেয়ারতের সময় আরিফ দেখে বেলাল তার সাথেই দাঁড়িয়ে কবর জেয়ারত করছে।
বিলালের কবর জিয়ারতের সময় আরিফ দেখতে পায় বেলাল তার পাশে দাঁড়িয়ে কবর জেয়ারত করছে আর কাঁদছে।আরিফ প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায় আর খুব জোরে চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু আকস্মিকভাবে আরিফের গলার ভয়েস বের হয়না। আরিফ হাজার চেষ্টা করেও গলা দিয়ে স্বর বের করতে পারেনা। আরিফের সমস্ত শরীর যেন অবশ হয়ে আসে। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তনয়,, আরিফ তনয় কে ডাকার চেষ্টা করছে কিন্তু তনয় কিছুতেই আরিফের দিকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না কারণ ওরা কবর জিয়ারতের বিজি আছে। এরই মাঝে বেলাল আরিফের কানের কাছে গিয়ে কথা বলে কিরে আরিফ ওদের ডাকছিস কেন? আমিতো শুধু তোর সাথে দেখা করতে এসেছি। আরিফ বলে তুই না মারা গেছিস তাহলে তুই আমার পাশে কিভাবে এলি? বেলাল হাহা করে জোরে হেসে দেয় তার হাসিতে যেন ভুবন কাঁপছিল কিন্তু ওই হাসির সাউন্ড আর কেউ শুনতে পাচ্ছিল না একমাত্র আরিফ শুনতে পাচ্ছিল। বেলাল বলে ওরাও আমাকে দেখতে পাবে যার যার সময় হলে সে ঠিকই আমাকে দেখতে পাবে। বলেই বেলাল কবরের উপর গিয়ে শুয়ে পড়ে হাসতে হাসতে মিশে যায়। আরিফ বুঝতে পারে না তার সাথে এটা কি হচ্ছে আর তার সাথেই বা কেন হচ্ছে?
হঠাৎ করে তনয়ের ফোনে একটা ফোন আসে ফোনটা কেটে দিয়ে তনয় বলে কাব্য বেলাল এর মৃত্যুর খবর শুনে সানি আর নাঈম আসছে ওরা স্টেশনে আছে ওখান থেকে এগিয়ে নিয়ে আসতে বলছে বলছে।
কাব্য বলে তাহলে ওদের জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দেই।তনয় বলে ওকে তাই কর।
এর পরপর ই তনয় আবার ফোন দেই সানির কাছে,,, সানি কাব্যর গাড়ি পাঠাচ্ছি তোরা চলে যায় গাড়িতে উঠে।আমরা সবাই কাব্যর বাড়িতেই যাচ্ছি।সানি বলে গাড়ি নিয়ে তো কাব্যর বউ এসছে।তনয় কাব্যকে বলে এই কাব্য তুই গাড়ি নিয়ে ভাবিকে যেতে বলেছিস।কাব্য বলে কই নাতো।তনয় বলে সানি যে বললো কাব্যর বউ এসছে গাড়ি নিয়ে।
কাব্য অবাক হয়ে যায়।ও তো ফারজু কে বলেই নি গাড়ি নিয়ে যেতে।
কাব্য তনয় কে বলে হয়তো বাসার ল্যানলাইনে ফোন দিয়েছিলো তাই ফারজু ফোন টা ধরে আমাকে না পেয়ে ওদের আনতে গেছে।তনয় বলে যাক ভাবি তাহলে যথেষ্ট বুদ্ধি মতি আছে।
কাব্য,তনয়,আর আরিফ তার বাড়িতে পৌছে যায়।এখনি পৌছে যাবে সানিরা।তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।কাব্য বাড়িতে এসে দেখে বিভিন্ন রকমের খাবার রান্না করে রাখা।কাব্য অবাক হয়ে যায় ফারজু তো বাসায় নেই তাহলে রাঁন্না টা করলো কে।
কাব্য ফ্রেশ হওয়ার জন্য নিজের রুমে যায় সেখানে গিয়ে কাব্য আবার ও চমকে যায়।একি ফারজু এখানে সুয়ে আছে।তাহলে গাড়ি নিয়ে ওদের আনতে গিয়েছে কে?কাব্য ফারজু কে ডাকে এই ফারজু ফারজু।ফারজু গভীর ঘুমে মগ্ন আছে।অনেক ক্ষণ ডাকার পরে ফারজুর জ্ঞান ফিরেছে।ফারজু বলে আপনি।এভাবে ডাকছেন কেনো?
"তুমি এখানে সুয়ে আছো।তুমি না সানি দের আনতে গিয়েছো"
"সানি কে"
"হোয়াট সানি কে মানে।সানি আমার ফ্রেন্ড।তুমি না ওদের আনতে গেলে"
"আমি কিভাবে আনতে যাবো।আমি কি তাদের চিনি কাব্য বাবু।"
"কিন্তু সানি যে বললো আমার বউ তাদের আনতে গেছে"
"কাকে আপনার বউ ভেবেছে কি জানি।আচ্ছা ওরা এলেই তো দেখতে পাবেন আমি ওদের সাথে আছি কিনা"
"তুমি এভাবে সুয়ে ছিলে কেনো"
আসলে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।আপনাকে বলা ঠিক হবে কিনা জানিনা।
কিসের ভয়।আমাকে বলো।
ওই যে আপনি বললেন না আপনার কিছু গেস্ট আসছে। তাদের জন্য রান্না করতে।তাই আমি রান্না করছিলাম।হটাত রান্না ঘরে দেখি কেউ একজন আমার চোখ বেঁধে দিলো।আমি আপনাকে মনে করেছি।কিন্ত কিছুক্ষণ পর দেখি একটা অপরিচিত মানুষের কন্ঠ।সে নাকি আমাক্ব খেয়ে ফেলতে চাই।মানুষ খাওয়া নাকি তার অভ্যাস।তারপর যে কি হলো আমি জানিনা।আপনি ডাকলেন আর আমি ঘুম থেকে উঠলাম।
আমার গায়ে একটা চিমটি কাটেন তো আমি বেঁচে আছি কিনা।
কাব্য মনে করে ফারজু ভীষণ ভয় পেয়ে এমন বলছে।কাব্য আস্তে একটা চিমটি কাটার সাথে ফারজুর শরীর কেটে কালো কুচকুচে রক্ত বেরিয়ে এলো।
কাব্য এমন কালো রক্ত দেখেই চমকে গেলো।
একি ফারজু তোমার শরীরের রক্ত কালো কেন?
ফারজু বলে দীর্ঘদিন ফ্রোজেন ছিলাম তো তাই রক্ত জমে গিয়ে এমন হয়ে গেছে।
এরই মাঝে নিচে গাড়ির হর্ণ শোনা যায়।
সানি আর নাঈম গাড়ি থেকে নেমে আসলো।
কাব্য আর ফারজু গাড়ির কাছে আসাতেই নাঈম বলে আরে ভাবি আমাদের আগেই চলে এসছেন।
ফারজু আর কাব্য একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।কাব্যর কাছে গভীর রহস্যর লাগে ব্যাপার টা তাই কিছু না বলেই সানিদের ভিতরে আসতে বলে।
ফারজুকে খাবার রেডি করতে বলে কাব্য।
এদিকে কাব্য সানিকে বলে আচ্ছা ফারজু তোদের আনতে গেছিলো কি কি হয়েছিলো বল তো।
সানি বলে আমরা স্টেশনে ছিলাম।হটাত ভাবি এসে বলে আমি কাব্যর বউ।কাব্য বেলালের কবর জেয়ারত এ বিজি আছে। তাই আমাকে গাড়ি দিয়ে পাঠালো।তোর গাড়িটা দেখে নিশ্চিন্ত হলাম উঠে পড়লাম।কিন্তু মাঝ রাস্তায় এসে বলে আমাদের গাড়ি নিয়ে চলে আসতে উনি কিছু বাজার রেখেছে ওগুলো নিয়ে আসবেন।
ওই দিকে হসপিটালের লাশ উধাও হওয়ার ঘটনায় আতঙ্কে আছে পুরা হসপিটালের মানুষ। রোজ রাতে পুলিশে পাহারা দিচ্ছে হসপিটাল এর চারদিক।
মাহাস আহমেদ মিম কে ডেকে পাঠান।
মিম এসে বলে স্যার ডেকেছেন।
হ্যাঁ ডেকেছি।
সেদিনের পরে কি হলো বাকিটা তো আর বললেন না।আজ পুরাটা শুনতে চাই।
মিম তারপর থেকে বলা শুরু করে।
স্যার আমরা মাংস বাজারে গেলাম যে লোকটা মুরগীর পরিবর্তে মানুষের মাংস মিশিয়ে দিয়েছিলো সেই লোকটার চোখ মুখ অন্য রকম লাগছিলো।আশে পাশের দোকান গুলাতে খোজ লাগালাম।তারা বলে ওই লোকটা কারো সাথেই মিশে না।গভীর রাতে আসে।তবে গরু বা খাসি নিয়ে আসে না একটা করে মানুষ এনে জবাই দেই আর তার ই মাংস বিক্রি করে।লোকটা কখন আসে আর কখন যায় বুঝি না।এই মাস খানিক হইছে তার এমন অদ্ভুত আচরণ।এস আই আই শুভ লোকটাতে লাঠি দিয়ে কয়েক ঘা দেওয়ার পর বেরিয়ে আসে তার কাহিনী।যার মাংশ বিক্রি করেছে তার কাটা মাথাটা বেরিয়ে নিয়ে আসে।।।
কাটা মাথা দেখে আমি সেন্সলেস হয়ে গেছিলাম।এই মাথাটা আর কারো নয় আমাদের সিনিয়র ডাক্তারের।
আশে পাশের লোকজন অদ্ভুত রহস্যময়ী কিছু জিনিস বলে।।।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

অনু_গল্প : (১৫ বছরের বউ )

 " লজ্জা করেনা! এই ৩৫ বছরে এসে ১৫ বছরের যুবতি মেয়ে কে বিয়ে করতে?

" আসলে হয়েছে কি!
"যৌ'বন উতল্লাছে আপনার যে আমাকে বিয়ে করছেন। নিজেকে দেখেছেন একবার আয়নায়।
"আমার কোন ইচ্ছেই ছিলো না আপনাকে বিয়ে কারার? কিন্তু আমার মা বাবা জোর করে বিয়েটা দিছে।
"জানা আছে আপনাদের মতো লোকদের? এমন সুন্দরী মেয়ে দেখলে কার বা মাথা ঠিক থাকে।
"আমি অন্য কারোর মতো না।
"সেটা দেখাই যাচ্ছে আপনি কেমন!
"চিন্তা করিয়েন না। আমি আপনাকে ডিভোর্স দিবো। তবে এর জন্যে কিছু দিন ধৈর্য ধরতে হবে।
"আমি এখনি ডিভোর্স চাই।
"এটা তো চাইলেই হবে না। এর জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। আর আপনার যদি খুব সমস্যা থাকে তো আপনি আমাকে ডিভোর্স দিতে পারেন।
"এখন তো কতো বাহানা বের হবে।
"চুলুন এখন ঘুমিয়ে পরি। আজ অনেক চাপের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি।
"যতো তারা তারি পারেন আমাকে ডিভোর্স দিবেন। আপনার সাথে আমি থাকতে পারবো না।
"ঠিক আছে চেষ্টা করবো।
"তো এর পরে এই ভাবে একটি মাস কেটে যেয়। কেউ কারো সাথে প্রয়োজন ছারা কথা বলে না।
"হঠাৎ একদিন মেয়েটি আলমারি তে কিছু একটা খুজতে গিয়ে একটি ডাইরি পায়। অনেক চিন্তা ভাবনার পরে কাউকে না বলে চুপি সারে পরতে থাকে।
#ডাইরিতে লেখা ছিলো :
-মা তোমার মৃ'ত্যুর ঠিক এক মাস পরেই বাবা বিয়ে করলো! বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই আমার সেই বাবা আর আগের বাবা নেই। ভাবছো কেনো! কারন তুমি যে নেই এই জন্যে । বাবা কে বলে ছিলাম বাবা আমি পরাশুনা করবো..? তখন সৎ মা বলেছিলো তুই পরাশুনা করলে এই সংসার কে চালাবে হ্যা। জমিতে কাজ করবে কে হ্যা। এর পরে সেখানেই আমার পরাশুনা ইতি। জানো মা সারা দিন রৌদ্রে কাজ করে আসি। কিন্তু এসে একটু খাবার পাইনা। মা আমার শরীরে রোদ লাগবে এই জন্যে তোমার মাথার কাপর দিয়ে আমার শরীর ঢাকতে। এখন দেখো তোমার এই ছেলে দিব্বি রোদে কাজ করে বেরায়। আমার বাব এখন আমার কথা শুনে পায়না। কারন আমি নাকি মিথ্যা বলি। মা তোমার চলে যাওয়াতে আমি এই জীবনটা মরূভূমি হয়ে গিয়েছে। তুমি কি জিনিস ছিলে মা এখন বুজি? জানো মা তোমার ওই সুন্দর দেখতে ছেলেটা কাজ করতে করতে কুৎসিত হয়ে গিয়েছে। আরো জানো মা যখন বিয়ের বয়স হলো তখন আমাকে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হলো টাকা উপাচার্যের জন্যে । ............ এই ভাবে মেয়েটি ডাইরিটি পরতে পরতে শেষ পৃষ্টায় চলে আসে।
--জানো মা ভেবেছিলাম জীবনে শুখ তো করতে পাইলম না। একটি বিয়ে করে শুখের জীবন কাটাবো। কিন্তু সেটাও হলোনা এই অভাগার কপালে। কেনো জানো মা ওই টাকা কামাই করতে করতে কখন যে যৌবনের বয়সটা চলে গেছে ভাবতেই পারিনাই। বলো এই 35 বছরে এসে তোমার ছেরেকে কোন মেয়ে পছন্দ করবে। তবুও বিয়ে একটি করলাম কিন্তু বাসর ঘরে ডুকতেই তোমার বউমা আমাকে এতো কথা শুনিয়েছে যে বিয়ে করে শুখের সংসার করার ইচ্ছেটাই মারা গিয়েছে। তাকে কথা দিতেছি মা আমি ডিভোর্স দিবো। জানো মা আমার কষ্টটা তুমি ছারা আর কেউ বুজলো না।
( এখানে বুঝা যায় ছেলেটির মা ছোট্ট থাকায় মা"রা গিয়েছে )
--এই সব কিছু মেয়েটি পরার পরে, তার চোখে অশ্রু ঝরতে থাকে। কারন একটি মানুষ একটু শুখের জন্যে কতো কষ্ট করেছে আর সেই মানুষটাকেই এতো কস্ট দিয়েছি। না আর একটু ও কষ্ট পাইতে দিবো না তাকে। আমার ভালোবাসা দিয়ে তার জীবনটা রাঙ্গিয়ে তুলবো। এই সব ভাবতেছে ঠিক সেই সময় কারো একজন আসার শব্দ পাওয়ার সাথে সাথেই ডাইরিটা লুকিয়ে ফেলে।
"লুকানো সাথে সাথে দেখতে পায় যে এটা তার স্বামী । রুমে এসেছে।
বউ : এই যে শুনুন।
স্বামী : হুম বলো!
বউ: আমাকে মাপ করে দিন।
স্বামী : কেনো! কি করলে যে মাপ করবো।
বউ : আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।
স্বামী : আরে না কিসের কষ্ট?
বউ : আপনি আপনার ডাইরিটা পরেছি।
"এই কথাটি শুনার পরে পরেই স্বামী স্রী দুজনেই কিচুক্ষন নিরব থাকে।
বউ : প্লিজ আমাকে মাপ করে দিন। আমার ভূল আমি বুজতে পারছি।
স্বামী : ঠিক আছে মাপ করে দিলাম।
"মাপ করার কথাটি শুনেই মেয়েটি কান্না করতে করতে স্বামী কে জরিয়ে ধরে।
বউ : সত্যি তুমি অনেক ভালো । যা আমি আগে বুজতে পারিনাই।
স্বামী : পাগলি বউটা আমার আমি জানতাম তুমি একদিন সব মেনে নিবে।
"আর এখানেই এই অনু গল্পটি শেষ হয়।


ত্যাগ

 :-আমাদের ডিভোর্স কি আজই হয়ে যাবে পরশ ?

,
:- মায়ের এটাই ইচ্ছে !
,
:- ও , তোমার কোনও ইচ্ছে নেই ? আর একটু যদি তুমি ভেবে দেখতে?
,
:- অবনী , আমি কতো বার বলবো মা আমার সন্তান দেখতে চান। আমাদের বিয়ে হয়েছে এই চার বছর । অনেক ডক্টর আমরা দেখিয়েছি। সবার এক কথা তুমি কোনও দিন মা হতে পারবে না। এখন তুমি বলো আমি কি করতে পারি ?
,
:- আমাদের দু বছরের ভালোবাসা আর চার বছরের সংসার তুমি এতো তাড়াতাড়ি শেষ করে দিতে চাও ?
,
:- আমি অপেক্ষা করেছি তোমার আমার ভালোবাসার কথা চিন্তা করে । কিন্তু মাকে আমি কথা দিয়েছি তাকে তাঁর শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে দেবো।
,
এই বলেই পরশ গটগট করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল । আমি ধপ করে বসে পড়লাম বিছানায় । দুচোখ বেয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়ছে । বাঁধ মানছে না কিছুতেই ।
আমার আর পরশের প্রথম দেখা একটা শপিং মলে। আমি একটা দোকানে বসে কসমেটিক্স দেখছিলাম হঠাত্ করে পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো ,
,
:- এক্সকিউজমি , একটু শুনবেন ?
এভাবে ডাক শুনে চমকে উঠলাম । আবার সে বললো ,
,
:- এই যে ম্যাম , আপনাকেই বলছি ?
,
আমি একটু অবাক হয়ে কাছে গিয়ে বললাম ,
,
:- আপনি আমাকে বলছেন ?
,
:- জী আপনাকে । আসলে বন্ধুর বউয়ের জন্য একটা শাড়ি কিনতে আসছি। কিন্তু চয়েজ করতে পারছি না । প্লিজ যদি একটু হেল্প করতেন ।
,
:- ঠিক আছে আপনি কতো টাকার ভিতরে কিনতে চান বলুন আমি পছন্দ করে দিচ্ছি।
,
:- টাকা নিয়ে টেনশন নেই। যতো দাম হোক আপনি একটা শাড়ি পছন্দ করুন ।
সেদিন খুব সুন্দর একটা শাড়ি পছন্দ করে দিলাম । লোকটা খুশি হয়ে ফোন নম্বর দিয়ে বললো ,
,
:- আমি পরশ একটা বিদেশি কম্পানিতে জব করি। আপনি কি করেন জানতে পারি ?
,
:- আপাতত একটা স্কুলে জব করছি। আচ্ছা আসি ভাল থাকবেন ।
,
:- কিছু মনে না করলে আপনার নম্বর টা যদি দিতেন । কখনও এমন সিচুয়শনে পড়লে ফোন করে ডেকে নিব।
সেদিন ওর কথা শুনে হেসে দিলাম । তারপর থেকেই শুরু । ভালোলাগা ভালোবাসা । দু বছর এভাবে কেটে গেল । একদিন বাসা থেকে চাপ দিলো বিয়ে করতে হবে । পরশ কে বলতেই ও বললো , " আজই মায়ের সাথে কথা বলবো।
পরশ ছিল বিরাট কোটিপতির ছেলে । আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সামান্য একটা স্কুল মাস্টারের মেয়ে । তাই পরশের মা সব কিছু শুনে বললো ,
,
:-ওই ঘরের মেয়ে আমার বাড়ির বউ হবার যোগ্য নয়।
পরশ তুমি ওকে ভুলে যাও।
কিন্তু না পরশ আমাকে ভুলিনি। বিয়ে করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল । পরশের মা আমাকে তিন বছর পর মেনে নিল ।
তারপর ও আমি ভিষন খুশি ছিলাম পরশের মতো এতো দায়িত্ববান স্বামী পেয়ে ।
,
কিন্তু আজ পরশ মায়ের কথা রাখতে আমাকে ডিভোর্স দিতে প্রস্তুত । আমি কোনও দিন মা হতে পারবো না এটাই আমার অপরাধ । তাই পরশ ঠিক করেছে আগের বারের ভুল টা শুধরে মায়ের বাধ্য সন্তান হতে ।
,
আমাদের ডিভোর্স টা হয়েই গেল । আমি শেষ পর্যন্ত স্থির ছিলাম । একটু ও কাঁদিনি। চোখ দুটি বড্ড শান্ত ছিল । পরশের মুখে ছিল বিজয়ের হাসি। হয়তো বাবা হবার স্বপ্ন ওকে নতুন করে ' বাঁচতে শেখাচ্ছিল।
,
কেটে গেল পাঁচ বছর । লোক মুখে শুনেছিলাম পরশ নিজের কাজিনকে বিয়ে করে বেশ সুখেই আছে । ও সুখে থাকুক সেইটাই চেয়েছিলাম সব সময় ।
,
:- অবনী আমার শার্ট কোথায়? যলদি দাও অফিসে জরুরি মিটিং আছে ।
,
:- এই নাও ,তোমার চোখের সামনেই ছিল । আচ্ছা ফারহান তুমি সব সময় কাছাকাছি সব কিছু থাকতে ও আমাকে ডাকো কেন ? তুমি যানো না তোমার মেয়ে কে সামলাতে গিয়ে আমি হিমসিম খাই।
,
:- ডাকি কারণ আমার লক্ষি বউটাকে না দেখে বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না।
,
:- হয়েছে হয়েছে আর আহ্লাদ করতে হবে না। মেয়ে দেখছে সব কিছু ।
,
:- দেখুন তাতে আমার কি। ও জানুক ওর বাবা ওর মাকে কতোটা ভালোবাসে।
,
:- আচ্ছা শোন, পরশু পরীর জন্মদিন তুমি অফিসের সবাই কে বলবে কিন্তু । আমি চাই ওর প্রথম জন্ম দিনে সবাই উপস্থিত থাকুক ।
,
:- ভাল কথা মনে করিয়ে দিলে । আজই বলবো সবাই কে । আমার অফিসের বস কে ও বলবো। জানো অবনী স্যার বিয়ে করেছেন পাঁচ বছর কিন্তু কোনও বাচ্চা নেই।
,
:- ওহহহহ ! আচ্ছা ঠিক আছে তুমি তাকে ও আসতে বলো।
,
বিকেল থেকে অতিথি সব আসতে লাগলো। অনুষ্ঠান শুরু হতে বেশি বাকি নেই। হঠাত্ করে একটা পরিচিত মুখের দিকে দৃষ্টি আটকে গেল । পরশ ! দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেখা । পরশ ও আমাকে দেখে চমকে গেল । কারো বুঝতে বাকি নেই কে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে ।
,
পরশ আমাকে দেখে ঘামতে শুরু করেছে। হিসেব মিলাতে ব্যস্ত পরী কে ? আমার তো কোনও দিন মা হবার কথা ছিল না তাহলে এই সন্তান ?

পরিবর্তন

 সকালে অফিসে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছিলো দেখে শ্রাবণী তাড়াহুড়ো করে গোসল করে কাপড় গুলো না ধুয়েই অফিসে চলে যায়। আমি শ্রাবণীর ভেজা কাপড়গুলো ধুয়ে ছাদে যখন শুকাতে নিয়ে যাই তখন দেখি আমার পাশের ফ্ল্যাটের আনোয়ার ভাই ছাদে দাঁড়িয়ে ব্রাশ করছে। আমি দড়িতে যখন শ্রাবণীর ভেজা শাড়িটা মেলে দিচ্ছিলাম আনোয়ার ভাই আমায় দেখে মুচকি হেসে বললো,

~ পিয়াস ভাই, আপনায় একটা কথা বললে কিছু মনে করবেন?
আমি বললাম,
-- বলেন কি বলবেন
আনোয়ার ভাই হাসতে হাসতে বললেন,
~ ভাই, আপনি পুরুষ মানুষতো না কি? কিছু মনে করবেন না, আপনাকে আমার কোনো এংগেলে পুরুষ মানুষ মনে হয় না
কথাটা শুনে আমি এই বিষয়ে কিছু না বলে বললাম,
-- ভাই আমি যাই। বাসায় আমার কিছু কাজ আছে
আনোয়ার ভাই তখন বললো,
~বাসায় গিয়ে তো মিয়া মেয়েদের মত থালাবাসন পরিষ্কার করবেন আর ঘর ঝাড়ু দিবেন
আমি তখন হেসে বললাম,
-- শুধু থালাবাসন আর ঘর পরিষ্কার না দুপুর আর রাতের জন্য রান্নাও করতে হবে
আমার কথা শুনে আনোয়ার ভাই মনে হয় কিছুটা রেগে গেলো। উনি তখন বললেন,
~যান মিয়া, মেয়েদের কাজ করেন গিয়ে। হাফলেডিস কোথাকার
আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ নিচে নেমে আসলাম। আমাদের সমাজের কিছু মানুষ এখনো ঘরের কাজ গুলোকে শুধু মেয়েদের কাজ মনে করে। ৬ বছর প্রেম করার পর আমি শ্রাবণীকে বিয়ে করি। আর বিয়ের পর দুইজনেই চাকরিতে জয়েন করি। দুই বছর চাকরি করার পর আমি কিছু কারণে চাকরিটা ছেড়ে দেই। এখন আপাতত বাসায় আছি বাসার কাজ কর্ম করছি আর নতুন চাকরির জন্য চেষ্টা করছি।
ঘর গোছানোর কাজ যখন শেষ তখন শ্রাবণী ফোন দিয়ে বললো,
- পিয়াস, রাতে দেশি মুরগি আর জাম আলু দিয়ে পাতলা ঝোলের তরকারি খেতে ইচ্ছে করছে।
আমি মুচকি হেসে বললাম,
-- ঠিক আছে আমি রান্না করছি...
---
-----
বাইক নিয়ে ৪০ মিনিট ধরে শ্রাবণীর অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি অথচ শ্রাবণীর আসার নাম নেই। তাছাড়া শ্রাবণীর ফোনের সুইচ-অফ। মনে মনে ভাবলাম ও হয়তো মিটিংয়ে আছে আসতে দেরি হবে। তাই পাশের চায়ের দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে মনের সুখে কয়েক টান দিতেই খেয়াল করি শ্রাবণী আমার সামনে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। রাগলে শ্রাবণীর নাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে যায় আর ফর্সা চেহারাটা একদম গোলাপি হয়। খুব অদ্ভুত রকম সুন্দর লাগে তখন। আমি সিগারেটটা দূরে ফেলে দিয়ে বললাম,
--ভুল হয়ে গেছে, এই কান ধরছি আর জীবনেও কখনো খাবো না। এইবারের মত মাফ করে দাও
বাইক চালানোর সময় শ্রাবণী আমায় খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
- পিয়াস, তোমায় আমি প্রচন্ডরকম ভালোবাসি। তোমার কিছু হলে আমি সত্যি মরে যাবো
আমি বললাম,
-- আরে পাগলি, আমি জানি তো তুমি আমায় প্রচন্ড ভালোবাসো
শ্রাবণী তখন আমার পিঠে সমানে কিল ঘুষি মেরে বলতে লাগলো,
- জানিস তাহলে সিগারেট খাস কেন? আমি চোখের থেকে আড়াল হলেই তুই সিগারেট খাস
আমি হাসতে হাসতে বললাম,
-- ছিঃ ছিঃ স্বামীকে তুই করে বলতে নেই
শ্রাবণী তখন আমায় আবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
-পুরোনো অভ্যাস তো...
---
----
কুরবানী ঈদের ৯ দিন আগেই আমি শ্রাবণী গ্রামের বাড়ি এসে পরেছি। বাবার হাতে কুরবানীর গরু কিনার জন্য টাকা দিতেই বাবা অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললো,
~ আমি বেহালাল রোজগারের টাকা দিয়ে গরু কুরবানী দিতে পারব না?
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- বেহালাল বলছো কেন বাবা?
বাবা তখন রেগে গিয়ে বললো,
~নিজে বাসায় মেয়েদের মত বসে থেকে বউকে দিয়ে রোজগার করাচ্ছো। লজ্জা করে না বউয়ের টাকা দিয়ে চলতে?
আমি তখন বাবাকে বললাম,
-- এইখানে লজ্জার কি আছে? স্ত্রী যদি সংসারের হাল ধরে তাহলে সমস্যা কি? আর মেয়ে মানুষ টাকা ইনকাম করলেই সেটা বেহালাল হবে এটা কেমন কথা?
বাবা আরো রেগে গিয়ে বললো,
~তোমার এত প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো না। তোমার বউয়ের টাকায় আমি কুরবানী দিবো না
বাবার কথা গুলো সহজে মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই আমি আর শ্রাবণী ঈদ না করেই ঢাকায় আবার এসে পরি। বিকালের দিকে বেলকনির গ্রীল ধরে যখন বাহিরে তাকিয়ে ছিলাম তখন হঠাৎ শ্রাবণী এসে বললো,
- তোমার একটা ভালো চাকরি হলেই আমি আমার চাকরিটা ছেড়ে দিবো।
আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম,
-- কেন?
শ্রাবণী চোখের কোণে জমে থাকা জলটা মুছতে মুছতে বললো,
- তোমায় কেউ বাজে কথা বললে আমার খুব কষ্ট হয়
আমি শ্রাবণীকে কাছে টেনে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-- সমাজের কিছু মানুষ খারাপ কথা বলবেই। এতে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। কথা গুলো এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিবে। দেখো একদিন সমাজের সকল মানুষ বুঝবে আর সেদিন এই সমাজটা পরিবর্তন হয়ে যাবে
এমন সময় আনোয়ার ভাইয়ের ফ্ল্যাট থেকে ভাবীর চিৎকারের শব্দ শুনে আমি শ্রাবণী দৌড়ে উনাদের ফ্ল্যাটে গেলাম৷ গিয়ে দেখি আনোয়ার ভাই উনার স্ত্রীকে মারছেন। আমি আনোয়ার ভাইয়ের হাত থেকে লাঠিটা কেড়ে নিয়ে বললাম,
-- আরে, আপনি ভাবীকে মারছেন কেন?
আনোয়ার ভাই রেগে গিয়ে বললো,
~ আমি পুরুষ তাই আমি আমার স্ত্রীকে মারছি। আপনার মতো হাফলেডিস না যে ঘরে বসে মেয়েদের কাজ করবো আর বউয়ের ইনকাম খাবো
আমি উনার কথা শুনে বললাম,
-- তারমানে নিজের পুরুষত্ব প্রমাণ করার জন্য স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতে হবে?
আনোয়ার ভাই যখন আমায় কিছু বলতে যাবে তখন শ্রাবণী রেগে গিয়ে বললো,
- আপনার নিজেরও তো একটা মেয়ে আছে। আপনার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর আপনার মেয়ের জামাই আপনার মেয়েকে মেরে তার পুরুষত্বের প্রমাণ দেয় তখন আপনার কেমন লাগবে?
শ্রাবণীর কথা শুনে আনোয়ার ভাই একদম চুপ হয়ে আছে। শ্রাবণী তখন আনোয়ার ভাইয়ের কাছে গিয়ে বললো,
- আমার স্বামীর পুরুষত্ব নিয়ে যদি আপনার সন্দেহ হয় তাহলে একটা কাজ করেন। নিজের---
শ্রাবণী আনোয়ার ভাইয়ের কানে কানে কি যেন একটা বললো। আনোয়ার ভাই কথাটা শুনে মাথা একদম নিচু করে আছে। আমি রুমে এসে অবাক হয়ে শ্রাবণীকে বললাম,
-- তুমি কানে কানে কি এমন বললে যে আনোয়ার ভাই একদম মাথা নিচু করে ফেললো?
শ্রাবণী আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
- খারাপ কথা গুলো এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দিতে হয় না। প্রতিটা খারাপ কথা গুলোর জন্য প্রতিবাদ করতে হয়। যেন নেক্সট টাইম এই খারাপ কথাগুলো বলার আগে দ্বিতীয়বার ভাবে। সমাজ এমনি এমনি কখনোই পরিবর্তন হবে না। প্রতিটা খারাপ কাজ আর খারাপ কথার সঠিক জবাব দিতে পারলে সমাজ এমনিতেই পরিবর্তন হবে

প্রেমারায়_মত্ত (এলার্ট- প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত)

  ' শিক্ষক মানুষ হয়ে নিষিদ্ধ পল্লীতে এসেছেন! তবু কিনা নিজের জন্য পাত্রী দেখতে! কী ব্যাপার বলুন তো মশাই, মাথায় ব্যামো ট্যামো আছে নাকি? ...